সাধারণ জিজ্ঞাসা
ইনসাফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন আগারগাঁও, ঢাকা-ভিত্তিক একটি অরাজনৈতিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। ২০২০ সাল থেকে আমরা সুদমুক্ত লোন ও মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছি। শরিয়াহ সম্মত পদ্ধতিতে ছোট ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে লোন বিতরণ আমাদের প্রধান কার্যক্রম।
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী সুদ (রিবা) সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুদমুক্ত অর্থায়নের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, সুদমুক্ত অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে কাজ করছি।
আমাদের প্রধান কার্যালয় আগারগাঁও প্রশাসনিক এলাকা, ঢাকা-১২০৭, বাংলাদেশে অবস্থিত। অফিসের সময়: শনি থেকে বৃহস্পতি সকাল ৯:০০টা থেকে বিকাল ৬:০০টা পর্যন্ত। শুক্রবার ও সরকারি ছুটির দিন অফিস বন্ধ থাকে।
ইনসাফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমরা সুদমুক্ত অর্থনীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।
হ্যাঁ, ইনসাফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সরকারের অধীনে একটি নিবন্ধিত সামাজিক কল্যাণ সংস্থা। আমাদের সকল কার্যক্রম সরকারি নিয়ম ও ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পরিচালিত হয়।
যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া
যেকোনো মুসলিম নাগরিক যার বয়স ২১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা, স্থায়ী ও নিয়মিত আয়ের উৎস আছে, এবং সুদভিত্তিক লেনদেনে জড়িত নন, তিনি আবেদন করতে পারবেন।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত কপি, ৪ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আয়ের প্রমাণপত্র (বেতন স্লিপ/ব্যাংক স্টেটমেন্ট/ট্রেড লাইসেন্স), চারিত্রিক সনদ, দুইজন জামিনদারের তথ্য ও পূর্ণাঙ্গ আবেদন ফর্ম।
সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রদান করলে ৭-১০ কার্যদিবসের মধ্যে আবেদন মূল্যায়ন সম্পন্ন হয় এবং ঋণ বিতরণ করা হয়।
লোনের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৫,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত লোন প্রদান করা হয়। চূড়ান্ত পরিমাণ আবেদনকারীর প্রয়োজন ও সামর্থ্য অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
হ্যাঁ, আপনি আমাদের ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে আবেদন করতে পারেন। ওয়েবসাইটের কন্টাক্ট সেকশনে গিয়ে ফর্ম পূরণ করে আবেদন জমা দিন। আমাদের প্রতিনিধি আপনার সাথে যোগাযোগ করবেন।
আবেদন ফি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। আপনি বিনা মূল্যে আবেদন করতে পারেন। শুধুমাত্র লোন অনুমোদিত হলে ন্যূনতম প্রসেসিং ফি (৫০০-১০০০ টাকা) প্রদান করতে হবে।
লোন সংক্রান্ত তথ্য
লোনের ধরন অনুযায়ী সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে সর্বোচ্চ ৩৬ মাস পর্যন্ত কিস্তিতে পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। আপনার আয় ও সক্ষমতা অনুযায়ী কিস্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়।
হ্যাঁ, ইনসাফ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল লোন সম্পূর্ণ সুদমুক্ত। আমরা কোনো প্রকার সুদ বা লুকানো ফি গ্রহণ করি না। শুধুমাত্র ন্যূনতম প্রসেসিং ফি (ঋণের পরিমাণ অনুযায়ী ৫০০-১০০০ টাকা) গ্রহণ করা হয়।
আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে কিস্তি গ্রহণ করি: সরাসরি অফিসে নগদ জমা, ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট/নগদ), এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে।
ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ না পরিশোধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জরুরি প্রয়োজনে সময় বাড়ানোর জন্য আগেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা ইসলামী নীতি অনুযায়ী ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা বিবেচনা করে সময় বৃদ্ধি করতে পারি।
হ্যাঁ, আপনি যেকোনো সময় আগাম কিস্তি পরিশোধ করতে পারেন। এতে কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা জরিমানা নেই। ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী আগাম পরিশোধে কোনো অতিরিক্ত টাকা নেওয়া যাবে না।
বর্তমান লোন সম্পূর্ণ পরিশোধের পর আপনি নতুন করে আবেদন করতে পারবেন। একই সময়ে একাধিক লোন সাধারণত দেওয়া হয় না। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কমিটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ইসলামী শরীয়াহ নির্দেশিকা
লোনের টাকা শুধুমাত্র হালাল কাজে ব্যবহার করতে হবে। যেমন: ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা, গৃহনির্মাণ ইত্যাদি। জুয়া, মাদক, সুদভিত্তিক লেনদেন বা অন্য কোনো হারাম কাজে লোন ব্যবহার করা যাবে না।
ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী ঋণের জন্য জামিনদার রাখা মুস্তাহাব (উত্তম)। দুইজন সক্ষম মুসলিম জামিনদার প্রয়োজন যারা ঋণগ্রহীতার পক্ষে জামিন হতে পারেন। জামিনদারদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও তথ্য প্রয়োজন।
হ্যাঁ, মেয়াদ শেষে অতিরিক্ত টাকা নিলে তা সুদ হিসেবে গণ্য হবে যা ইসলামী শরীয়াহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমরা কখনোই অতিরিক্ত টাকা গ্রহণ করি না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শুধু নির্ধারিত কিস্তি পরিশোধ করতে হবে।
ইসলামে ঋণ খেলাপ একটি গুরুতর অপরাধ। যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকার পরেও ঋণ পরিশোধ করে না, সে গুনাহগার হবে। আমরা প্রথমে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করি। পরবর্তীতে ইসলামী নীতি ও বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে প্রথমে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এরপর সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। যদি পর্যাপ্ত সম্পত্তি না থাকে, তবে জামিনদাররা ঋণ পরিশোধের জন্য দায়ী থাকবেন।
ডকুমেন্টস সম্পর্কিত তথ্য
আপনি যেকোনো নোটারি পাবলিক, প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা (প্রধান শিক্ষক, ইউএনও, চেয়ারম্যান) অথবা ব্যাংকের অনুমোদিত কর্মকর্তার কাছ থেকে সত্যায়িত কপি করতে পারবেন।
স্থানীয় মসজিদের ইমাম, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, প্রধান শিক্ষক অথবা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি চারিত্রিক সনদ প্রদান করতে পারেন।
যদি আপনার ব্যাংক একাউন্ট না থাকে, তাহলে বিকাশ/রকেট/নগদের লেনদেনের ইতিহাস অথবা আয়ের অন্যান্য প্রমাণপত্র জমা দিতে পারেন। আমাদের টিম আপনার আয়ের উৎস যাচাই করবে।
জামিনদারদের এনআইডি কার্ডের সত্যায়িত কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং আয়ের প্রমাণপত্র (বেতন স্লিপ/ব্যাংক স্টেটমেন্ট/ট্রেড লাইসেন্স) প্রয়োজন। জামিনদারদের ব্যক্তিগত উপস্থিতিও আবশ্যক।
কাগজপত্র জাল করা একটি অপরাধ। আবেদন বাতিলের পাশাপাশি জালিয়াতির জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে আবেদনের অযোগ্য বিবেচিত হবেন।
সহায়তা ও যোগাযোগ
আপনি আমাদের হটলাইন নম্বরে (+৮৮০ ১৭৫৫-৩২৯৯৩৯) কল করতে পারেন অথবা info@insafislamic.org ইমেইল করতে পারেন। আমাদের সহায়তা টিম ২৪/৭ আপনার জন্য উন্মুক্ত। এছাড়াও আপনি helpdesk.const-tech.xyz-এ গিয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা পেতে পারেন।
আবেদন জমা দেওয়ার পর আমরা আপনার প্রদত্ত মোবাইল নম্বরে এসএমএস ও কলের মাধ্যমে জানিয়ে দেব। এছাড়াও আপনি আমাদের ওয়েবসাইটের লগইন প্যানেলে গিয়ে আপনার আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন।
আপনি বিভিন্নভাবে সাহায্য করতে পারেন: দান সাদাকা প্রদান করে, স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করে, অথবা আমাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অন্যদের জানিয়ে। আমরা সব ধরনের মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা গ্রহণ করি।
আপনি আমাদের হটলাইন নম্বরে ফোন করে, ইমেইল করে অথবা সরাসরি অফিসে এসে আপনার অভিযোগ জানাতে পারেন। আমরা আপনার অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে শুনব এবং দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।
আমরা ফেসবুক, টুইটার, লিংকডইন এবং ইউটিউবে সক্রিয়। আমাদের ওয়েবসাইটের ফুটার সেকশনে সোশ্যাল মিডিয়া লিংক দেওয়া আছে। সেখানে ক্লিক করে আমাদের সাথে যুক্ত হতে পারেন এবং সর্বশেষ আপডেট পেতে পারেন।
কিস্তি পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য
মাসিক কিস্তির পরিমাণ আপনার নেওয়া লোনের পরিমাণ ও মেয়াদের উপর নির্ভর করে। আবেদন মূল্যায়নের সময় আপনার আয় ও সক্ষমতা অনুযায়ী কিস্তির পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়।
যদি কোনো কারণে কিস্তির তারিখ পার হয়ে যায়, তাহলে দ্রুততম সময়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। আমরা ইসলামী নীতি অনুযায়ী আপনার সমস্যা বিবেচনা করে সময় বৃদ্ধি করতে পারি। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে না দিলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হ্যাঁ, আমরা বিকাশ, রকেট ও নগদের মাধ্যমে কিস্তি গ্রহণ করি। আপনার কিস্তির পরিমাণ আমাদের প্রদত্ত নম্বরে ট্রান্সফার করতে পারেন। ট্রান্সফারের পর আপনার ট্রানজেকশন আইডি সংরক্ষণ করুন।
প্রতিটি কিস্তি প্রদানের পর আপনাকে একটি রিসিট বা পেমেন্ট কনফার্মেশন দেওয়া হবে। অনলাইন পেমেন্টের ক্ষেত্রে আপনার ইমেইলে কনফার্মেশন পাঠানো হবে।
এখনও প্রশ্ন বাকি?
আমাদের বিশেষজ্ঞ টিম আপনার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উত্তর প্রদান করা হয়।