ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা ও শর্তাবলী
আমাদের সুদমুক্ত ঋণ (কারযে হাসানা) পেতে হলে আপনাকে নিম্নলিখিত শর্তসমূহ পূরণ করতে হবে। এই শর্তাবলী ইসলামী শরীয়াহ ও ফাউন্ডেশনের নিজস্ব নীতিমালা অনুসারে প্রণীত।
✅ মৌলিক যোগ্যতা
- ধর্ম: আবেদনকারীকে অবশ্যই মুসলিম হতে হবে (তবে অমুসলিম অতি দরিদ্রদের জন্যও পৃথক মানবিক তহবিল রয়েছে)।
- বয়স: ন্যূনতম ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৬০ বছর (ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পর্যন্ত বিবেচ্য)।
- জাতীয়তা: বাংলাদেশের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- আয়ের উৎস: স্থায়ী ও নিয়মিত আয়ের উৎস থাকতে হবে (চাকরি, ব্যবসা বা কৃষি) যা ঋণের কিস্তি পরিশোধে সক্ষম।
- ইসলামী চরিত্র: আবেদনকারীকে সুদ (রিবা), ঘুষ, প্রতারণা সহ বড় পাপ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দ্বীনদার ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত হতে হবে।
📋 প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস
- ১. জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি।
- ২. দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি (স্বাক্ষরসহ)।
- ৩. আয়ের প্রমাণপত্র: চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে চাকরির সনদ বা বেতন স্লিপ, ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও ট্যাক্স আইডি (যদি থাকে)।
- ৪. চারিত্রিক সনদ: স্থানীয় মসজিদের ইমাম বা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের প্রদত্ত সনদ।
- ৫. জামিনদারদের (গ্যারান্টার) এনআইডি ও আয়ের প্রমাণপত্র।
🕌 ইসলামী শরীয়াহ নির্দেশিকা
- উদ্দেশ্য: ঋণ কেবল বৈধ (হালাল) কাজে ব্যয় করতে হবে। যেমন: ব্যবসা, কৃষি, শিক্ষা, চিকিৎসা বা গৃহনির্মাণ। মদের দোকান, জুয়া বা অন্য কোনো হারাম কাজে ঋণ দেওয়া হবে না।
- সুদ (রিবা) নয়: এটি স্পষ্ট যে, এটি সুদমুক্ত ঋণ। অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ঋণগ্রহীতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উত্তমরূপে (আহসান) পরিশোধ করলে তা সওয়াবের কাজ।
- জামিনদার: দু'জন সক্ষম মুসলিম পুরুষ বা এক পুরুষ ও দুই মহিলা জামিনদার বাধ্যতামূলক। (হানাফী মাযহাব অনুযায়ী সাক্ষ্য ও জামিনের নিয়ম) ।
💰 ঋণের পরিমাণ ও পরিশোধের নিয়ম
| ঋণের প্রকার |
সর্বোচ্চ পরিমাণ |
পরিশোধের সময় |
কিস্তি |
| ক্ষুদ্র ব্যবসা |
BDT ৫০,০০০ |
১২ মাস |
মাসিক সমান কিস্তি |
| কৃষি ঋণ |
BDT ৩০,০০০ |
৬-১২ মাস (ফসল অনুযায়ী) |
মৌসুম ভিত্তিক |
| চিকিৎসা/শিক্ষা |
BDT ২৫,০০০ |
১২ মাস |
মাসিক সমান কিস্তি |
| দুর্যোগকালীন জরুরি সাহায্য |
BDT ১০,০০০ |
৬ মাস |
মাসিক সমান কিস্তি |
* নির্দিষ্ট পরিমাণ ও সময় আবেদনকারীর সামর্থ্য ও প্রয়োজন অনুসারে পরিবর্তিত হতে পারে।
⚠️ শর্ত ভঙ্গের পরিণতি
- কোনো প্রকার মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে ঋণের আবেদন বাতিল হবে এবং ইতোমধ্যে গৃহীত অর্থ তাৎক্ষণিক ফেরত চাওয়া হবে।
- ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ না পরিশোধ করলে ইসলামী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং পরকালীন জবাবদিহিতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।
- হারাম কাজে ঋণ ব্যবহার করলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে কোনো ঋণ দেওয়া হবে না।
জ্ঞাতব্য: ইনসাফ ইসলামিক ফাউন্ডেশন যেকোনো আবেদনকারীকে কারণ না দেখিয়ে ঋণ প্রদানে অস্বীকৃতি জানাতে পারে। আমাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।